নির্মাতা

Muhallil Abtahee

[email protected]

Kushtia sadar, Kushtia

মুক্তির পথে

ভিউ

846

শেয়ার করুন

এই স্বল্পদৈর্ঘ্য রূপকধর্মী প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে আজকের স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপকার এবং দিকদ্রষ্টা হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনস্বীকার্য অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের আবির্ভাবের পর থেকেই রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাব্যবস্থা সকল দিক থেকে নানাভাবে পশ্চিম পাকিস্তানিরা -বাংলার মানুষকে বৈষম্যের শিকার করতে থাকে, বিভিন্ন ভাবে বাংলার মানুষের উপর তারা আগ্রাসী আচরণ প্রদর্শন করে। এর প্রতিবাদে বাঙালি জাতি-ও রুখে দাঁড়ায়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দাবি উত্থাপন, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান প্রভৃতি ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু এরপরেও পশ্চিম পাকিস্তানের জোর-জুলুম থেমে যায় না, বরং আরো বাড়তেই থাকে। এমনকি ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ উভয় ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানিরা শুরু করে নানা টালবাহানা। বাঙালিদের উপর তাদের বৈষম্যের ধারা অব্যাহত-ই রইলো। এই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে বাংলার স্বাধীনতা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আর এই স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য চাই এক বজ্রকঠিন, দৃঢ় নেতৃত্বের। সেই প্রেক্ষিতে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে তিনি বাংলার মানুষের মনে নতুন করে সাহস, শক্তির সঞ্চার ঘটান; বাঙালি জাতির মুক্তির পথ সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। জাতির জনকের সেই অমিয় বাণী- "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"- এর মধ্যেই যেন লুকায়িত ছিল বাংলাদেশের মুক্তির মূল-মন্ত্র। তাঁর দেওয়া প্রেরণার হাত ধরেই বীর বাঙালি সন্তানেরা দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করে নিজেদের মাতৃভূমির জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভ করে। আর বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের প্রেরণায় এই মুক্তিলাভের পথ ধরেই বাংলার মানুষ আজ এক স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীতে তাই এই মহান নেতার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। -উপরের ঘটনাপ্রবাহগুলোই প্রকৃতির সাথে সাযুজ্য রেখে কিছু রূপক এবং উপমা ব্যবহার করে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে।